সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আজকের বাংলা চলচ্চিত্র কোন পথে হাঁটছে?                     আমাদের চলচ্চিত্র কি ছিল? কোন দিকে এগোচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্র? এক কথায় বলাই যায়, ছিল ত বহু কিছু, তবে এখন দ্রুত প্রসারে মহাপতনের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই লক্ষনটি ভালো। বাঙালির পিঠ দেওয়ালে না ঠেকলে বাঙালি ঘুরে দাঁড়ায় না। আমাদের কোনো সংগ্ৰামী-ই রক্ত ছাড়া হয় না। স্বাধীধতা সংগ্ৰাম থেকে দেশভাগ, মুক্তি যুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলন সবেতেই রক্তক্ষয় হয়ে এসেছে। তেমনি চলচ্চিত্র শিল্পেও রক্তক্ষরনটা জরুরী।                                          কলকাতা ও ঢাকার বড় বড় বাজেটের ছবি সুন্দর ছবিগুলোও মুখ থুবড়ে পড়ছে। কিছু কিছু স্বার্থলোভী চলচ্চিত্র ব্যাবসায়ী দুটো পয়সার চটজলদি আয়ের জন্য টেলিভিশনের চ্যানেলগুলোকে বিক্রি করে দিচ্ছে। তাছাড়া ইংরেজি ভাষী বাঙালি মায়েরা ছেলেমেয়েদের বাংলা ভাষা না শিখিয়ে, বাংলা আমাদের মাতৃভাষাকে দূরেয়সরিয়ে রাখার জন্য বাংলা সিনেমার অবনতি ঘটছে। ফলে ঢাকা ও কলকাতা দুই শহরেরই সিনেমায় ধ্বস ...
পণপ্রথা যা সামাজিক ব্যাধি "                                               "যাব না বাসরকক্ষে বধূবেশে বাজায়ে কিঙ্কিণী —                                                       আমারে প্রেমের বীর্যে করো অশঙ্কিনী।                                                              বীরহস্তে বরমাল্য লব একদিন"                                                                                   ...

তোকে ভালবাসি

তোকে ভালবাসি এখন মনে পড়ছে সেই তোর হাসি মাখা মিষ্টি মুখ  অপেক্ষায় আছি তোর উদ্যম মুখে সেই মন মাতানো সুখ। এখন মনে পড়ছে তোর সেই তোর হাসি মুখ নীল জামার ছবিটায়, এখন খুঁজছি তোর অবচেতন মনের সেই বার্তা- এখন ভাবছি তোর সেই বার্তার মধ্যে কথা। তোর চুপ থাকায়, স্মৃতিগুলো পাগল করে দেয়। এখন দেখছি ফুলে ফুলে প্রজাপ্রতির মত দেখি তোর চলাফেরা, ভ্রমর হয়ে মন তোর খুঁজছি দিশেহারা। এখন ভাবছি তোর ফিরি কালো কেশির মিষ্টি চোখের ভাষা। এখন স্বপ্নে আমার ঘরে তোর যাওয়া আসা। তোর হাসি মুখ আমায় বোঝায় না, নিশ্চুপ থাকা- বোঝাতে চাইছি মনকে, তবু মন বুঝছে না, তোর নিশ্চুপ থাকা। তাই নীরবে ঝরে অশ্রু মানে না কোন বাঁধা। এখন হন্য  হয়ে বসে আছি তোর বার্তার অপেক্ষায়। হয়তো। হঠাৎ নিভে যাবে, হঠাৎ জ্বলে উঠা প্রেমের রঙ্গিন বাতি। হবেই বা না কেন, আমি আজও বলতে পারিনি যে- আমি শুধু তোকে ই ভালবাসি। কি করি ভালবাসি বললে, যদি না থাক, সেও বলতে পারছি না যে... এখন উল্টিয়ে দেখছি ক্ষুদ্র জীবনের সব গুলোপাতা স্মৃতি, হয়তো সারাজীবন না বলা স্মৃতিই ভেবে যেতে হবে। তোকে নিয়ে লেখা হয়ে গেল শত কবিতা। এখনও তোকে নিয়ে লিখছি যত ...
   কামরূপ কামাখ্যার রহস্যেভরা আখ্যানের কথা শুনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই উপমহাদেশ তো বটেই সমগ্র বিশ্বে কামরূপ কামাখ্যার আশ্চর্যে ভরা আখ্যানের আলাদা কদর রয়েছে। কামরূপ কামাখ্যাকে বলা হয় জাদুটোনা, তন্ত্র-মন্ত্রের দেশ। কামাখ্যা মন্দির হল ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমাংশে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত হিন্দু দেবী কামাখ্যার একটি মন্দির। এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও আছে। এই মন্দিরগুলোতে দশমহাবিদ্যা অর্থাৎ ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ত্রিপুরাসুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলা– এই দশ দেবীর মন্দিরও রয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এই মন্দির একটি পবিত্র তীর্থ। কামাখ্যা মন্দিরে চারটি কক্ষ আছে, গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ (যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন ও নাটমন্দির)। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। অন্যগুলোর স্থাপত্য তেজপুরের সূর্যমন্দিরের সমতুল্য। এগুলোতে খাজুরাহো বা ...

বাংলার ব্রিটিশ ঐতিহাসিক

কার্ল হ্যামারগ্রেন নামে এক সুইডিশ সাহেবের কথা জানেন রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠক। এ দেশকে ভালবেসে, এ দেশের তরুণদের জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কাজে তিনি অক্লান্ত ছিলেন আমৃত্যু। ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে গভীর যোগ ছিল তাঁর। হ্যামারগ্রেনের অকালমৃত্যু ১২৫ বছর আগে (১৩০১ বঙ্গাব্দ) জন্ম দেবে ‘অনধিকার প্রবেশ’ আর ‘বিদেশীয় অতিথি এবং দেশীয় আতিথ্য’ নামক রচনা। ব্যবধান প্রায় ৭৮ বছরের। রবীন্দ্র-অনুষঙ্গে জুড়ে যাবেন আর এক সাহেব। এ দেশকে ভালবেসে পরম মমতায় বাংলার মন্দিরশিল্পের হারানো গৌরব উদ্ধারে যিনি প্রাণান্ত প্রয়াস করবেন। ডেভিড জন ম্যাককাচ্চন। ছিপছিপে চেহারা। স্মিত হাসি। কাঁধে ছোট একটা ব্যাগ আর গলায় ক্যামেরা। ও পার-এ পার বাংলা জুড়ে যিনি ছুটছেন পুরনো মন্দিরের খোঁজে। চিনছেন এবং চেনাচ্ছেন সে সব মন্দিরের গঠনরীতির স্বাতন্ত্র্য। গত শতাব্দীর ষাটের দশক জুড়ে বাংলা চিনত এমন এক সাহেবকে। মন্দিরের টানে যিনি মাইলের পর মাইল মেঠো পথ পাড়ি দিচ্ছেন অক্লেশে। তথ্য জানতে যিনি গভীর আগ্রহে শুনছেন গ্রামের সাধারণতম মানুষটির কথাও। ১৯৩০-এর ১২ অগস্ট ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রিতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম ডেভিডের। স্কুল শিক্ষা শেষে বাধ্যতামূলক সেনা...

বাংলার ইতিহাস

                               ‘বাংলা’ শব্দটির সঙ্গে একবার সপ্তমী, আর একবার ষষ্ঠী বিভক্তির হেরফের ঘটিয়ে ‘বাংলা’ কথাটি একাধারে একটি ভাষা এবং একটি ভূখণ্ডের অর্থবহ হয়ে যায়। এর ভিতর দিয়ে বাংলা ভাষা, বাংলা নামক এলাকা, ওই ভাষাটির ব্যবহারকারী হিসেবে বাঙালির পরিচিতি খুঁজে নেওয়া যায়। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে সরল এবং নিরীহ মনে হলেও তার ভিতরে পরতে পরতে জড়িয়ে আছে জটিলতা। সেই জটিলতা বুঝতে গেলে ইতিহাসের ভিতরে ঢুকতে হয়। ভাষা হিসেবে বাংলার প্রাচীনত্ব মেরেকেটে খ্রিস্টীয় দশম-একাদশ শতকের আগে নিয়ে যাওয়া কঠিন। এই সময়ে বাংলা বলে কোনও এলাকা নেই। অথচ ইতিহাসবিদরা হামেশাই বাংলার ইতিহাস আলোচনা করেন। ১৯৪৭-এর ১৫ অগস্টের আগে বাংলা বলতে এখনকার পশ্চিমবঙ্গ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের এলাকা মিলিয়ে একটি অঞ্চল ছিল। এই ভূখণ্ডটি আয়তনে এখনকার ফ্রান্সের চেয়ে বড়। ব্রিটিশ আমলের ‘বাংলা’ নামক প্রদেশটির উদ্ভব মুঘলকালীন বাংলা সুবা থেকে। তার আগেও সুলতানি শাসনের সময় এই ভূখণ্ডটির ঐতিহাসিক পরিচিতি চতুর্দশ শতকের আগে নিয়ে যাওয়া মুশকিল। অথচ ‘বাংলা’ (ইংরেজি ...